দেশের কোন কোন গ্রামে হোলির নামে শুনলেও আতঙ্ক ছড়ায়! কেন?
দি নিউজ লায়নঃ
দুর্গাপুর (ঝাড়খণ্ড) – ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার দুর্গাপুর গ্রামে হোলির নামে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। এখানকার মানুষেরা ভুলেও হোলির দিনে একে অন্যকে রং দেন না। তাঁরা মনে করেন যে রং খেললে দুর্গাপুর গ্রামে বিপর্যয় নেমে আসবে। স্থানীয় লোককথা অনুসারে মহারাজ দুর্গাদেব এই গ্রামের পত্তন করেন। সেই সময় এখানে সব উত্সব মহা সমারোহে পালিত হত।
কিন্তু এক বছর হোলির দিনে রাজপুত্রের মৃত্যু হয়। তার পর থেকে দুর্গাপুরে যতবার হোলি খেলা হয়েছে, ততবারই খরা বা মহামারীর মতো বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এমনকি রাজা দুর্গাদেবও হোলির দিনে শত্রুর হামলায় মারা যান। সেই খবর শুনে রানিও আত্মহত্যা করেন। সেই থেকে এই গ্রামে হোলি নিষিদ্ধ। তাই এই গ্রামের লোকেরা গত ১০০ বছর ধরে এখানকার প্রায় ১০০০ লোক রঙের উৎসবে সামিল হন না। লোকেরা বিশ্বাস করেন, যদি কেউ রঙ খেলেন তবে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত।
রামসন গ্রাম (গুজরাত) – গুজরাতের বনাসকন্ঠ জেলায় অবস্থিত রামসন নামে একটি গ্রামে, গত ২০০ বছর ধরে হোলি উত্সব পালন করা হয় না। এই গ্রামের নাম আগে ছিল রামেশ্বর। বিশ্বাস করা হয়, ভগবান রাম তাঁর জীবদ্দশায় একবার এখানে এসেছিলেন। বলা হয়, একসময় এক অহঙ্কারী রাজার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে কিছু সাধু ওই রাজাকে শাপ দিয়েছিল। সেই সময় থেকেই এই গ্রামে হোলি পালন করা হয় না।
রুদ্রপ্রয়াগ (উত্তরাখণ্ড) – উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় কুরঝান ও কুয়েভলি নামের দুটি গ্রাম রয়েছে। এই দুটি গ্রামে গত ১৫০ বছর ধরে হোলি খেলা হয় না। এখানকার স্থানীয় মানুষেরা বিশ্বাস করেন, এলাকার দেবী ত্রিপুরা সুন্দরী দেবী গন্ডগোল-হৈ-চৈ পছন্দ করেন না, তাই এখানে দীর্ঘদিন ধরেই হোলি পালন করে না। উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগ অলাকানন্দ এবং মন্দাকিনী এই দুই নদীর মিলনস্থল। ভক্তরা এখানে শিব মন্দির দেখতে আসেন। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, শিব ভস্মাসুরের হাত থেকে রক্ষা পেতে এখানেই এক গুহায় আত্মগোপন করেছিল।
তামিলনাডু – উত্তর ভারত বা পূর্ব ভারতে যেমন হোলি পালন করা হয়, তামিলনাডুতে তেমন ভাবে হোলি পালন করা হয় না। বলা হয় হোলি যেহেতু পূর্ণিমার দিন পড়ে, তামিল ভাষায় এই দিন মাসি ম্যাগমার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়।

Post a Comment